মহীসঞ্চরণ কাকে বলে ?

মহীসঞ্চরণ



মহীসঞ্চরণ সংজ্ঞা :- 

ওয়েগনারের মতবাদ অনুযায়ী কার্বনিক ফেরাস উপযোগী উপযোগ এ মহাদেশ গুলি একত্রিত ভাবে অবস্থান করত যার নাম প্যানজিয়া এবং তার পাশের সুবিশাল জলাশয় অবস্থান করত এর নাম প্যানথালাসা। তার পরবর্তী মিথু জৈনিক যুগে জুয়াড়ি শক্তি এবং অভিকর্ষ শক্তির প্যানজিয়া খন্ডে খন্ডে ভেঙ্গে সরাতে থাকে তাকে মহীসঞ্চরণ বলে।



মহীসঞ্চরণ বৈশিষ্ট্য :-

১ ) প্রথমে দুটি খন্ডে ভাগে উত্তরে লরেসিয়া ও দক্ষিনে গোনন্ডোয়া ল্যান্ড।

২) মহীসঞ্চরণ এর ফলে পর্বত সৃষ্টি হয়।


প্রসঙ্গ : মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্ব 

মহাদেশ ও মহাসাগরের উৎপত্তি ও গঠন ব্যাখ্যায় মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্ব (Continental Drift Theory) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিমা (Sima)-এর ভিতর দিয়ে মহাদেশগুলি সঞ্চরিত হচ্ছে -- এই ধারণার প্রথম সার্থক প্রচার করেন জার্মান আবহওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগনার। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই মতবাদ উত্থাপন করেন। ১৯১৫ সালে তার জার্মান ভাষায় লিখিত বই 'Die Entstehung der Kontinente und Ozeane' -তে এই বিষয়টি বিশদে আলোচনা করেন এবং তত্ত্বের আকারে উপস্থাপন করেন।

১৯২২ সালে ইংরাজী ভাষায় সংশােধিত আকারে তাঁর The Origin of Continents and Oceans গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর মহীসঞ্চরণ তত্ত্ব বিজ্ঞান মহলে আলােড়ন সৃষ্টি করে। ১৫৯৬ সালে আব্রাহাম অর্টেলিয়াস সর্বপ্রথম মহাদেশ সঞ্চরণের ধারণাটি সর্বপ্রথম উল্লেখ করেন। ১৬২০ সালে ফ্রান্সিস বেকনের লেখা 'নােভাম অর্গানাম’ গ্রন্থে মহীসঞ্চরনের আভাস পাওয়া যায়। পরবর্তীতে থিওডোর লিলিয়েনথাল (১৭৫৬), আলেকজান্ডার ভন হামবােল্ট (১৮০১ ও ১৮৪৫) এর লেখাতেও মহীসঞ্চরনের উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে স্নাইডার, ১৯১০ সালে এফ. বি. টেলর এ বিষয়ে ধারণা দিলেও বিজ্ঞানী সমাজকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।


মূল বক্তব্যঃ- 
(ক) প্রাথমিক অবস্থাঃ-

(১) প্যানজিয়াঃ- কার্বনিফেরাস উপযুগে (৩৫.৮ থেকে ২৯.৮ কোটি বছর পূর্বে) বর্তমানে দক্ষিণ গােলার্ধের মধ্য অক্ষাংশে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশীয় ভূখন্ড আফ্রিকাকে বেষ্টন করে এক বিশাল অখন্ড মহাদেশ রূপে অবস্থান করত। তিনি এই বৃহৎ মহাদেশটির নাম দেন প্যানজিয়া।

(২) প্যানথালাসাঃ- প্যানজিয়ার চারপাশে একটি মাত্র সুবিশাল অখন্ড মহাসাগর ছিল। তিনি এর নাম দেন প্যানথালাসা।
(৩) লরেশিয়া বা আঙ্গারাল্যান্ডঃ- প্যানজিয়ার উত্তরের অংশটি অর্থাৎ বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরােপ এবং এশিয়া লরেশিয়া বা আঙ্গারাল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল। 
(৪) গন্ডােয়ানাল্যান্ডঃ- প্যানজিয়ার দক্ষিণের অংশটি অর্থাৎ বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, উপদ্বীপীয় ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং আন্টার্কটিকা গন্ডােয়ানাল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল।
(৫) টেথিস সাগরঃ- আঙ্গারাল্যান্ড ও গন্ডােয়ানাল্যান্ড একটি অগভীর সংকীর্ণ সমুদ্র দ্বারা বিচ্ছিন্ন ছিল, যার নাম টেথিস সাগর। 
(৬) দক্ষিণ মেরুর অবস্থানঃ- ওই সময় দক্ষিণ মেরু ছিল আফ্রিকার ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখার সংযােগস্থলে।

(খ) প্যানজিয়ার ভাঙ্গন ও সঞ্চরণঃ-
(১) প্যানজিয়ার ভাঙ্গনের সূত্রপাতঃ- আজ থেকে ২২ কোটি বছর আগে মেসােজোয়িক যুগ (২৫.২ কোটি থেকে ৬.৬ কোটি বছর পূর্বে) এর শুরুর দিকে বিশাল প্যানজিয়ার ভাঙ্গন শুরু হয় এবং অনেকগুলি মহাদেশীয় খন্ডে ভাগ হয়ে যায়।
(২) সঞ্চরণের অভিমুখঃ- ওয়েগনার মনে করেন যে, মহাদেশগুলি প্রধানত উত্তর ও পশ্চিম -- এই দুই দিকে সঞ্চরিত হয়। এর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা পশ্চিমদিকে এবং ইউরােপ, এশিয়া ও আফ্রিকা উত্তর দিকে সঞ্চরিত হয়। এই সময় আন্টার্কটিকা দক্ষিণ মেরু অঞ্চলেই রয়ে যায়।

(গ) মহাসাগর সৃষ্টিঃ-
(১) আটলান্টিক মহাসাগরঃ- উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা পশ্চিমদিকে সঞ্চরণের ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের সৃষ্টি হয়। 
(২) ভারত মহাসাগরঃ- অস্ট্রেলিয়া পূর্বদিকে সঞ্চরিত হওয়ায় ভারত মহাসাগরের সৃষ্টি হয়। 
(৩) প্রশান্ত মহাসগারঃ- প্যানথালাসার অবশিষ্টাংশ প্রশান্ত মহাসাগর রূপে বিরাজ করে।

(ঘ) ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টিঃ-
(১) আফ্রিকা ও ভারতীয় উপদ্বীপ এবং ইউরােপের সংঘর্ষের ফলে মধ্যবর্তী টেথিস সাগরের সঞ্চিত পলিরাশি কুঞ্চিত হয়ে আল্পস ও হিমালয় পর্বতশ্রেণির উদ্ভব হয়। 
(২) পশ্চিমদিকে সঞ্চরণশীল উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগরের সিমা স্তরে বাধা পেয়ে ভাঁজপ্রাপ্ত হয়ে পশ্চিমপ্রান্তে রকি ও আন্দিজ পর্বতশ্রেণী সৃষ্টি করে। 
(ঙ) মেরুর সরণঃ- বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক যুগে মহীসঞ্চরণের সঙ্গে পৃথিবীর দুই মেরুর অবস্থান বিভিন্ন অক্ষাংশে পরিবর্তিত হয়।  

★ উত্তর মেরু ★

(১) সিলুরিয়ান যুগে ১৪ ডিগ্রি উত্তর/১২৪ ডিগ্রি পশ্চিম। 

(২) কার্বনিফেরাস যুগে ১৬ ডিগ্রি উত্তর/১৪৭ ডিগ্রি পশ্চিম।
(৩) টার্শিয়ারি যুগে ৫১ ডিগ্রি উত্তর/১৫৩ ডিগ্রি পশ্চিম।
★ দক্ষিণ মেরু ★
পার্মিয়ান যুগে ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ/৪৫ ডিগ্রি পূর্ব থেকে ক্রমশ ৯০ ডিগ্রি দক্ষিণ অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়। 

(চ) দ্বীপীয় বৃত্তচাপঃ-
(১) এশিয়া ভূখন্ডের পশ্চিমাভিমুখী সরণের ফলে পূর্ব প্রান্তে মহাদেশীয় ভূভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ব এশিয়ায় অ্যালিউশিয়ান, জাপান প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।

(২) আমেরিকার পশ্চিম দিকে সঞ্চরণের ফলে মহাদেশের সংযােগ হারিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।


(ছ) মহাদেশীয় সঞ্চরণের কারণঃ-

ওয়েগনার মতে, মহাদেশীয় সঞ্চরণের প্রধান কারণ হল --

(১) বৈষম্যমূলক অভিকর্ষজ বল।
(২) জোয়ারভাটার শক্তি।

■ প্রতিবিধান তল এর ধারনা কে দেন

👉 সমস্থিতি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জে. এইচ. প্রাট প্রতিবিধান তল বা প্রতিপূরণ (Level of Compensation) তল এর ধারণা দিয়েছিলেন।


■ সমস্থিতি ভারসাম্য কাকে বলে

👉 পৃথিবীর উপরিভাগে অবস্থিত বিবিধ ভূমিরূপগুলি (যেমন – পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর প্রভৃতি) পারস্পরিক এক বিশেষ ভারসাম্য অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীর ভূমিভাগের উত্থিত ও নিমজ্জিত অংশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার এই ঘটনাকে সমস্থিতি বা Isostasy বলা হয়।


■ মহীসঞ্চরণ তত্ত্বের জনক কে

👉 মহীসঞ্চরণ মতবাদের প্রবক্তা হিসেবে আলফ্রেড ওয়েগনার


■ পরিচলন স্রোত তত্ত্বের প্রবক্তা কে

👉 পরিচলন স্রোত মতবাদের প্রবক্তা আর্থার হোমস।


Comments

  1. এট আরো ছোটো করলে ভালো হয় ।

    ReplyDelete
  2. মহাদেশ বা মহীসঞচরন কী এক

    ReplyDelete
  3. মহীসঞ্চরণ তত্ত্ব কার রচনা ?

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ভঙ্গিল পর্বত কাকে বলে?

পাত কাকে বলে ?

কুমারী নদী নর্মদা এবং আত্রেয়ী