ভৌমজল কী

■ ভৌমজল কাকে বলে? 

Or 

 ■ ভৌমজল কি? 

👉 ভৌমজলের সংজ্ঞা : ভূ-অভ্যন্তরে কিংবা মৃত্তিকা, রেগোলিথ এবং শিলারন্ধ্রে যে জল অবস্থান করে, তাকে ভৌমজল বলে।


■ ভৌমজলের প্রধান উৎস

👉 ভূ-অভ্যন্তরের কিংবা মৃত্তিকা রেগোলিথ এবং শিলা রন্ধে যে জল অবস্থান করে, তাকে ভৌম জল বলে। ভৌম জলের প্রধান উৎস হলো বৃষ্টি ও তুষার গলা জল।


■ ভৌমজলের নিয়ন্ত্রক গুলি কি কি

👉 বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও স্থায়িত্ব : বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও বণ্টনের প্রকৃতির ওপর ভৌমজলের পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হলে এবং তা বহুদিন ধরে হতে থাকলে অনুস্রাবণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে, ভৌমজলের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলে কিংবা অল্প সময় ধরে হলে অনুস্রাবণের মাত্রা কমে যায়। ফলে, ভৌমজলের সঞ্চয়ও কম হয়। শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম এবং অল্প সময় ধরে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে বলে ওই অঞ্চলে ভৌমজলের সঞ্চয়ও কম।

বাষ্পীভবন : বাষ্পীভবনের মাত্রা বেশি হলে অনুস্রাবণের মাত্রা কমে। ফলে ভৌমজলের সঞ্চয়ও কমে। বাষ্পীভবনের মাত্রা কমলে ভৌমজলের পরিমাণ বাড়ে।

শিলা বা মৃত্তিকার সচ্ছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতা : শিলার খনিজ কণা ও মাটির কণা সংঘবদ্ধভাবে বিন্যস্ত হলেও এদের মধ্যে ফাক বা শূন্যস্থান থেকে যায়। ওই রন্ধ্র ছিদ্রপথ দিয়ে বায়ু, জল প্রভৃতি চলাচল করে। একটি নির্দিষ্ট আয়তন মৃত্তিকায় মােট মৃত্তিকা রন্দ্রের আয়তন ও মৃত্তিকার মােট আয়তনের অনুপাতকে সচ্ছিদ্রতা বলে। শিলার বা মৃত্তিকা রন্দ্রের ব্যাস বড়াে হলে জল সহজে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। রন্দ্রের মধ্য দিয়ে জলের চলাচল ক্ষমতাকে শিলা বা মৃত্তিকার প্রবেশ্যতা বলে। শিলা বা মৃত্তিকার সচ্ছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতা ভৌমজল সঞ্জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভূমির ঢাল : ভূমির ঢাল বেশি হলে জল দ্রুত হারে নীচের দিকে গড়িয়ে যায়। ফলে ভূপৃষ্ঠের জল চুইয়ে মাটির নীচে বিশেষ প্রবেশ করতে পারে না। ভূমিরটাল কম হলে জল ধীরে ধীরে নীচের দিকে গড়িয়ে যায়। তাই এই অবস্থায় অনুস্রাবণের মাত্রা বাড়ে। ফলে ভূত্বকের উপপৃষ্ঠীয় স্তরে জলের সঞ্চয় বাড়ে।

ভূমি ব্যবহারের প্রকৃতি : কৃষিকাজের ফলে মাটি আলগা হয়, তাই অনুস্রাবণের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ভৌমজলের সঞ্চয় বেশি হয়। শহর অঞ্চলে পাকা রাস্তা ও ঘরবাড়ির অবস্থানের জন্য জলের অনুপ্রবেশ ব্যাহত হয়। তাই, এই অঞ্চলে ভৌমজলের সঞ্চয় হয় না বললেই চলে।

প্রবেশ্য নিলান্তরের নীচে অগ্রবেশ্য শিলান্তরের অবস্থান : প্রবেশ্য শিলার নীচে অপ্রবেশ্য শিলা অবস্থান করলে জলের নিম্নগামিতা বাধা পায়। ফলে অপ্রবেশ্য শিলার ওপর প্রবেশ্য শিলাস্তরে জল সঞ্চিত হয়ে ভৌমজলের সঞ্চয় বাড়ায়।


■ অতিরিক্ত ভৌমজল উত্তোলনের প্রভাব বর্ণনা করো

Or

■ ভৌমজলের উত্তোলনের প্রভাব গুলি বর্ণনা করো

👉 ভৌম জলতল হ্রাস-

অত্যধিক হারে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভের ভৌম জলতল অনেক নিচে নেমে যায়। ফলে নিয়মিতভাবে কূপ ও নলকূপের সাহায্যে ভৌমজল আহরণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

পানীয় জলের সংকট-

বর্তমানে মানুষের প্রয়োজনীয় পানীয় জলের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হল ভৌমজল। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ভৌমজল উত্তোলনের ভূ-গর্ভে ভৌমজলের সঞ্চয় সীমিত হয়ে পড়ে। তাই অনেক সময় বিশেষত গ্রীষ্মকালে এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কূপ ও নলকূপ শুকিয়ে যায়।ফলে পানীয় জলের সংকট সৃষ্টি হয়। কলকাতায় এই সমস্যা অত্যন্ত প্রকট।

ভূ-পৃষ্ঠীয় জলের পরিমাণ হ্রাস-

অত্যধিক হারে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠীয় নদনদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ের জল চুইয়ে ভূ-অভ্যন্তরে চলে যায়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠীয় জলের পরিমাণ হ্রাস পায়।

ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি-

অতিরিক্ত পরিমাণে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে যে ভৌম গহবর সৃষ্টি হয়, তা শিলাস্তরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

মৃত্তিকার লবনতা বৃদ্ধি-

অত্যধিক হারে ভৌমজল উত্তোলনের দ্বারা জমিতে জলসেচ করা হলে ওই ভৌম জলের মাধ্যমে উঠে আসা ভূ-অভ্যন্তরস্থ লবণ কৃষি জমিতে সঞ্চিত হয়। ফলে কৃষি জমির মৃত্তিকার লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে।

আর্সেনিক দূষণ-

অতিরিক্ত পরিমাণে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভে যে শূন্যস্থান সৃষ্টি হয়,তা বায়ু দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়। এরপর ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলাস্তরের আর্সেনিক যৌগ বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে জারিত হয়ে সহজেই জলে দ্রবীভূত হয়। ফলে জল দূষণ ঘটে।

কূপ ও নলকূপের স্থাপনের ব্যয় বৃদ্ধি-

অতিরিক্ত পরিমাণে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে ভৌম জলস্তর অনেক নিচে নেমে যায়।ফলে ভৌমজল উত্তোলনের জন্য কূপ ও নলকূপকে আরো গভীরে প্রোথিত করতে হয়। তাই কূপ ও নলকূপের স্থাপনের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

ভূমিধস সৃষ্টি-

অতিরিক্ত পরিমাণে ভৌমজল উত্তোলনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ভৌম গহবর সৃষ্টি হয়।এর ফলে শিলাস্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং ভূমিধস সৃষ্টি হয়।


■ জলপ্রবাহ বৃষ্টিপাত ভৌমজল ও বাস্পীভবন

👉 জলপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, ভৌমজল এবং বাস্পীভবন সম্পর্কে জানার জন্য প্রথমে আমরা জানতে হবে যে এগুলি প্রাকৃতিক ঘটনার সমষ্টি।


জলপ্রবাহ হলো জমাট পানি যা নদী বা অন্য মহাসাগর থেকে সীমাবদ্ধ একটি অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি সাধারণত বৃষ্টিপাতের কারণে ঘটে যায়। বৃষ্টিপাত হলো আবহাওয়া বা পরিবেশের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে জমা পানির মেঘ গড়ে তোলা। এই মেঘ থেকে পানি পড়ে যায় এবং এদের সংকেত হিসাবে আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থা গঠন হয়।


ভৌমজল হলো ধর্ষণ দ্বারা বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে প্রস্তুত একটি মানচিত্র যা পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর কাছাকাছি বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়। ভৌমজল থেকে জলপ্রবাহ চলতে শুরু হয় এবং নদী বা সমুদ্রের দিক


■ ভৌমজলের গুরুত্ব

👉 কৃষি ও শিল্পকর্মের প্রসার: বহু অঞ্চলে ভৌমজলের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে কৃষিকাজ ও শিল্পকাজ গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বহুস্থানে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ভৌমজল উত্তোলন করে বহুফসলি শস্যের উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

পানীয় জলের উৎস: ভৌমজল মানুষের পানীয় জলের প্রধান উৎস। গভীর ও অগভীর নলকূপ, কুয়ো থেকে আমরা পানীয় জল সংগ্রহ করি। প্রস্রবণের মধ্য দিয়ে নির্গত ভৌমজলও পানীয় হিসেবে অনেক সময় ব্যবহৃত হয়।

জনবসতি স্থাপন: প্রস্রবণ থেকে নির্গত ভৌমজল জনবসতি গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পশ্চিমবঙ্গে শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রস্রবণের জল ওই স্থানে জনবসতি গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

রোগ নিরাময় গুণ: চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে উন্ন প্রস্রবণের জলে কিছু কিছু রোগ নিরাময়কারী উপাদান থাকে। তাই, ওইসব স্থানে মানুষের সমাগম বাড়ে।

পর্যটন শিল্পের প্রসার: চুনাপাথরে গঠিত অঞ্চলে কিছু বিশেষ ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয় যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ফলে ওই অঞ্চলে বা স্থানে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠে।

নদীর জলের উৎস: নিত্যবহ নদীর জলের একটি উৎস হল প্রস্রবণ।

 মরূদ্যানের সৃষ্টি:  মরু অঞ্চলে বায়ুর দ্বারা বালুকারাশি অপসারিত হলে ভৌমজলপীঠ উন্মুক্ত হয়। ফলে মরুদ্যান সৃষ্টি হয় যা মানুষের চাষের কাজে ও বসতি স্থাপনে সাহায্য করে।

পানীয় প্রস্তুতের কাঁচামাল: নরম পানীয় প্রস্তুত করতে বা খনিজ জল তৈরিতে ভৌমজল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ভূতাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন: উয় প্রস্রবণ ও গিজারের উত্তপ্ত ভৌমজলকে কাজে লাগিয়ে ভূতাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

পশুদের প্রয়োজনীয় পানীয় জলের জোগান :  চুনাপাথর অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ শুষ্ক প্রকৃতির। এই অঞ্চলের তৃণই প্রধান উদ্ভিদ। পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় পানীয় জল এই অঞ্চলে গঠিত ভৌমজলের ভাণ্ডার থেকে সংগ্রহ করা হয়।


■ ভৌমজলের চাপ নির্ণয় করা হয় কোন যন্ত্রে

👉 ভৌমজলের চাপ নির্ণয় করার জন্য একটি যন্ত্র হলো বারোমিটার। বারোমিটার হলো একটি যন্ত্র যা বারোমিট্রিক চাপ নির্ণয় করে। এটি পানি বা অন্য রসায়ন পদার্থের ভৌত চাপ নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।


বারোমিটারে ব্যবহৃত হয় একটি শুষ্ক মাধ্যম (যেমন মার্কিউরি বা আধা বা পূর্ণ তেল) যা প্রথমে একটি বর্গাকার পাইপে রাখা হয়। এই পাইপে শুষ্ক মাধ্যম একটি দায়িত্ব পালন করে যা বারোমিটারের স্কেলে উপরের অংশে থাকে। তারপর একটি টিউব যুক্ত করা হয় যা একটি বায়ুর থিওফিলস্টিক ব্যালঞ্চ বা অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট দশা ঘুরতে পারে। এই টিউবের একটি প্রান্তে শুষ্ক মাধ্যম রয়েছে এবং অন্য প্রান্তে পানি বা অন্য রসায়ন পদার্থের চাপ পরিমাপ করার জন্য একটি কন্টেনার রয়েছে।



■ আবদ্ধ ভৌমজলাধার কাকে বলে

👉 আবদ্ধ ভৌমজলাধার হল সমুদ্র বা নদী সমুদ্রে স্থাপিত হতে পারে। সামান্য অংশ আবদ্ধ ভৌমজলাধার এলাকাগুলি হল সমুদ্র পুনর্নবীকরণ করে এবং এটি সামান্য কারণে জলপ্রবাহের সঙ্গে মিশে যায় এবং সামান্য অংশ জলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।


আবদ্ধ ভৌমজলাধার স্থাপিত হওয়া সমুদ্রে নৌকা চলাচল করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এছাড়াও আবদ্ধ ভৌমজলাধার ক্ষেত্রে জলপ্রবাহের দিকে কোন পরিবর্তন ঘটতে পারে যা বিপজ্জনক হতে পারে তাই সেখানে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।


 আরো পড়ুন : 

মৃত্তিকা কাকে বলে

বায়ুচাপ (Air Pressure) কাকে বলে

অন্তর্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে

রাসায়নিক আবহবিকার কি 

অ্যাকুইফার কি

ভৌমজল কী

Comments

Popular posts from this blog

ভঙ্গিল পর্বত কাকে বলে?

পাত কাকে বলে ?

কুমারী নদী নর্মদা এবং আত্রেয়ী