Posts

Showing posts from April, 2023

ম্যাকারোনেশিয়া কি?

Image
ম্যাকারোনেশিয়া   সংজ্ঞা : উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ইউরোপ ও আফ্রিকা উপকূলের নিকটে অবস্থিত ৪ টি আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ একত্রে ম্যাকারোনেশিয়া (Macaronesia) নামে পরিচিত। যে চারটি দ্বীপপুঞ্জ ম্যাকারোনেশিয়ার অন্তর্গত, সেগুলি হল -- পর্তুগালের অন্তর্গত অ্যাজোরেস্ দ্বীপপুঞ্জ ; পর্তুগালের অন্তর্গত ম্যাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ (স্যাভেজ দ্বীপপুঞ্জ সহ) ; স্পেনের অন্তর্গত ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং কেপ ভার্দে (আফ্রিকার স্বাধীন রাষ্ট্র)। ম্যাকারোনেশিয়াতে উপরোক্ত ৪টি দ্বীপপুঞ্জের মোট ৩৯ টি দ্বীপ রয়েছে। ম্যাকারোনেশিয়া শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ 'ম্যাকারন' (Makaron) অর্থে সৌভাগ্যবান এবং 'নেসোস্' (Nesos) অর্থে দ্বীপ থেকে এসেছে। অর্থাৎ, ম্যাকারোনেশিয়ার অর্থ হল সৌভাগ্যবানের দ্বীপপুঞ্জ (Islands of the Fortunate)। জীব-ভৌগোলিক বিভাগ অনুসারে, ম্যাকারোনেশিয়ার ৩ টি দ্বীপপুঞ্জ (অ্যাজোরেস্, ম্যাদেইরা, ক্যানারি) 'প্যালেআর্কটিক' অঞ্চলের অন্তর্গত এবং ১ টি দ্বীপপুঞ্জ (কেপ ভার্দে) 'আফ্রোট্রপিক্যাল' অঞ্চলের অন্তর্গত। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ম্যাকারোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জগুলি আগ্নেয় প্রকৃতির, যা হটস্পট কার্যকলাপের ...

অ্যাকুইফার কি

■ অ্যাকুইফার কি Or  অ্যাকুইফার কাকে বলে Or অ্যাকুইফার বলতে কী বোঝায় 👉 অ্যাকুইফারের সংজ্ঞা :  অ্যাকুইফার শব্দের উৎপত্তি দুটি ল্যাটিন শব্দ Aqua এবং Ferre থেকে। Aqua শব্দের অর্থ জল এবং Ferre শব্দের অর্থ বহনকারী। অতএব, অ্যাকুইফার শব্দের জলবহনকারী বা জলবাহী স্তর। যে ভূতাত্ত্বিক স্তরের মধ্য দিয়ে জল প্রবাহিত হয়, পরিপূরিত হয়, ক্ষরিত হয় এবং অর্থ জলের ভাণ্ডাররূপে অবস্থান করে তাকে অ্যাকুইফার বলে। ■ আবদ্ধ অ্যাকুইফার কী 👉 আবদ্ধ অ্যাকুইফার (১) দুটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের মধ্যে অবস্থান করে। (২) সম্পৃক্ত স্তর রূপে কেবল একটি মাত্র স্তর থাকে। (৩) জলপীঠ অনুপস্থিত, তবে জলচাপ পৃষ্ঠের অস্তিত্ব আছে যাকে অদৃশ্যভাবে জলতলের সমান ধরা হয়। ভৌমজলের পরিপূরণের ওপর এর ওঠানামা নির্ভরশীল। (৪) আবদ্ধ হওয়ায় জল প্রচণ্ড চাপের অন্তর্গত হয়। জল ক্ষরণের সম্ভাবনা কম। কম প্রবেশ্য স্তরের মধ্য দিয়ে কিছু জল অধােনমিত হয়। (৫) জল প্রবাহ বাধা পায়। ফলে জলের কোনাে প্রকার প্রবাহ নেই বললেই চলে। কিংবা মুক্ত অ্যাকুইফারের মত প্রবাহ ঘটে না। (৬) আর্টেজীয় কূপ খননের ফলে জল ফোয়ারার মতাে বেরিয়ে আসায় যান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়াে...

ভৌমজল কী

■ ভৌমজল কাকে বলে?  Or   ■ ভৌমজল কি?  👉 ভৌমজলের সংজ্ঞা : ভূ-অভ্যন্তরে কিংবা মৃত্তিকা, রেগোলিথ এবং শিলারন্ধ্রে যে জল অবস্থান করে, তাকে ভৌমজল বলে। ■ ভৌমজলের প্রধান উৎস 👉 ভূ-অভ্যন্তরের কিংবা মৃত্তিকা রেগোলিথ এবং শিলা রন্ধে যে জল অবস্থান করে, তাকে ভৌম জল বলে। ভৌম জলের প্রধান উৎস হলো বৃষ্টি ও তুষার গলা জল। ■ ভৌমজলের নিয়ন্ত্রক গুলি কি কি 👉 বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও স্থায়িত্ব : বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও বণ্টনের প্রকৃতির ওপর ভৌমজলের পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হলে এবং তা বহুদিন ধরে হতে থাকলে অনুস্রাবণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে, ভৌমজলের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলে কিংবা অল্প সময় ধরে হলে অনুস্রাবণের মাত্রা কমে যায়। ফলে, ভৌমজলের সঞ্চয়ও কম হয়। শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম এবং অল্প সময় ধরে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে বলে ওই অঞ্চলে ভৌমজলের সঞ্চয়ও কম। বাষ্পীভবন : বাষ্পীভবনের মাত্রা বেশি হলে অনুস্রাবণের মাত্রা কমে। ফলে ভৌমজলের সঞ্চয়ও কমে। বাষ্পীভবনের মাত্রা কমলে ভৌমজলের পরিমাণ বাড়ে। শিলা বা মৃত্তিকার সচ্ছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতা : শিলার খনিজ ক...

রাসায়নিক আবহবিকার কি

■ রাসায়নিক আবহবিকার 👉 রাসায়নিক আবহবিকার সংজ্ঞা : বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস, (অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি) ভূপৃষ্ঠের র জল ও বিভিন্ন অম্লের উপস্থিতিতে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হলে, তাকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে। ● রাসায়নিক আবাবিকারের প্রক্রিয়াসমূহ 👉 রাসায়নিক আবহবিকারের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি নীচে আলোচনা করা হল- 1. কার্বোনেশন বা অঙ্গারযোজন : বায়ুমণ্ডলের কার্বনডাইঅক্সাইডের (CO2) সঙ্গে জলের রাসায়নিক সংযোগে সৃষ্ট কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) শিলা খনিজের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে শিলার পরিবর্তন ঘটালে, তাকে কার্বোনেশন (Carbonation) বলে। বৃষ্টির জল বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাথে মিশে সৃষ্টি হয় মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড (H2O + CO2 = H2CO3)। এই কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথর বা ক্যালশিয়াম কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি করে, যা সহজেই দ্রবীভূত হয়। চুনাপাথর, ফেল্ডস্পার, হর্নব্লেজ প্রভৃতি খনিজের ওপরও এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয় এবং চুন সমৃদ্ধ মাটির উৎপত্তি হয়। যেমন রেনজিনা, চারনোজে প্রভৃতি মাটি। 2. অক্সিডেশন বা জারণ: জল বা জলীয়...

বায়ুচাপ (Air Pressure) কাকে বলে?

⬛️ বায়ুচাপ (Air Pressure) কাকে বলে 👉 বায়ুর চাপ (Air Pressure) : পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো একক ক্ষেত্রফলযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট ওজনসমৃদ্ধ বায়ু যে পরিমাণ বল বা ওজন প্রয়োগ করে, তাকেই সেই স্থানের বায়ুর চাপ বলে ৷ উদাহরণ : সমুদ্রপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের কোনো 1 বর্গসেমি এলাকায় বায়ুর চাপ প্রায় 1 কিলোগ্রাম ওজনের সমান । ⬛️ সমচাপরেখা কাকে বলে? 👉 সমচাপরেখা : বছরের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (জানুয়ারি ও জুলাই) পৃথিবীর যেসব স্থানে একই পরিমাণ বায়ুর চাপ থাকে, সেইসব স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমচাপরেখা (Isobar) বা সমপ্রেষ রেখা বা বায়ুচাপরেখা বলে । ■ সমচাপরেখার বৈশিষ্ট্য : 1️⃣ সমচাপরেখায় বায়ুচাপ গুলিকে মিলিবার (mb) এককে প্রকাশ করা হয়। পৃথিবীতে বায়ুচাপ সাধারণত 980 mb – 1050 mb। 2️⃣ সমচাপরেখায় সাধারণত বায়ুচাপের পরিমাণগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুচাপের হিসেবে দেখানো হয়। 3️⃣ সাধারণত স্থলভাগের ওপর সমচাপ রেখাগুলি আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত হয় এবং জলভাগের ওপর প্রায় সমান্তরালে বিস্তৃত হয়। সমচাপ রেখাগুলি পরস্পরকে স্পর্শ বা অতিক্রম করে না। 4️⃣ সমচাপ রেখাগুলি যেখানে পরস্প...

ভঙ্গিল পর্বত কাকে বলে?

Image
■ ভঙ্গিল পর্বত : 👉 ভঙ্গিল পর্বতের সংজ্ঞা : যে উঁচু নিচু বাস বিশিষ্ট বিশ্বাস কর পরবর্তী ভঙ্গিল পর্বত বলে কিন্তু এখন প্রশ্ন হল শীলা স্তরে এই পাশ করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয় সেই শক্তির উৎস কি এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান চারটি কারণে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি ঘটতে পারে আর এখানে সে গুলি আলোচনা করা হলো পৃথিবীর ভূ অভ্যন্তরের তাপের আসবা বৃদ্ধির জন্য উপকারে সৃষ্টি হয় যার ফলে ঐ স্থানগুলিতে অসম্মান সৃষ্টি হয় দ্বিতীয়তঃ পৃথিবীর ভিতরে বা বাইরে নানান কারণে জন্য ওয়ান এর ফলে শিরায় চাপ পড়ার ফলে সেসব স্থানে ভূভাগে উন্নতি ও অবনতি জন্য ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় তৃতীয় অভ্যন্তরে বিভিন্ন রকম তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি এবং তাতে জলের প্রবেশের জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রচুর পরিমাণে তা ও চাপের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় চতুর্থ ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা হল অল ফ্রেন্ড দিনারের প্লেট টেকটনিক তত্ত্ব অনুসারে পৃথিবীর মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় প্লেট তৈরি আর ইউ অভ্যন্তরের উপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে আলফ্রেড জেনারেল তার ভাসমান ভুবন বিষয়ক ধারণাই ...

মহীসঞ্চরণ কাকে বলে ?

Image
মহীসঞ্চরণ মহীসঞ্চরণ সংজ্ঞা :-  ওয়েগনারের মতবাদ অনুযায়ী কার্বনিক ফেরাস উপযোগী উপযোগ এ মহাদেশ গুলি একত্রিত ভাবে অবস্থান করত যার নাম প্যানজিয়া এবং তার পাশের সুবিশাল জলাশয় অবস্থান করত এর নাম প্যানথালাসা। তার পরবর্তী মিথু জৈনিক যুগে জুয়াড়ি শক্তি এবং অভিকর্ষ শক্তির প্যানজিয়া খন্ডে খন্ডে ভেঙ্গে সরাতে থাকে তাকে মহীসঞ্চরণ বলে। মহীসঞ্চরণ বৈশিষ্ট্য :- ১ ) প্রথমে দুটি খন্ডে ভাগে উত্তরে লরেসিয়া ও দক্ষিনে গোনন্ডোয়া ল্যান্ড। ২) মহীসঞ্চরণ এর ফলে পর্বত সৃষ্টি হয়। প্রসঙ্গ : মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্ব  মহাদেশ ও মহাসাগরের উৎপত্তি ও গঠন ব্যাখ্যায় মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্ব (Continental Drift Theory) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিমা (Sima)-এর ভিতর দিয়ে মহাদেশগুলি সঞ্চরিত হচ্ছে -- এই ধারণার প্রথম সার্থক প্রচার করেন জার্মান আবহওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগনার। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই মতবাদ উত্থাপন করেন। ১৯১৫ সালে তার জার্মান ভাষায় লিখিত বই 'Die Entstehung der Kontinente und Ozeane' -তে এই বিষয়টি বিশদে আলোচনা করেন এবং তত্ত্বের আকারে উপস্থাপন করেন। ১৯২২ সালে ইংরাজী ভাষায় সংশােধিত আকারে তাঁর The Origin ...

মৃত্তিকা কাকে বলে

⬛️ মৃত্তিকা  👉 সাধারণভাবে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদি শিলা পরিবর্তনের ফলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে বিভিন্ন খনিজ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হয়ে যে পাতলা ভঙ্গুর আবরণ বা স্তর সৃষ্টি হয়, যা উদ্ভিদ বৃদ্ধির সহায়ক তাকে মৃত্তিকা বলে। ⬛️ ভারতের মৃত্তিকা গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত or ভারতের মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র 👉 ভারতের প্রধান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র মধ্য প্রদেশের ভোপাল এ অবস্থিত। ⬛️ মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলতে কী বোঝায় or মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে 👉 যে পদ্ধতির মাধ্যমে মৃত্তিকাকে ক্ষয় ও অবনমনের হাত থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হয় তাকে  মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে। ⬛️ ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা 👉 প্রধানত ক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে মৃত্তিকার ‘A’ স্তর থেকে সিলিকা, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি পদার্থ অপসারিত হয়। ‘B ‘ স্তরে ইলুভিয়েশন প্রক্রিয়ায় লোহা ও আলুমিনিয়াম অক্সাইড সঞ্চিত হয়ে লাল বর্ণের যে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়, তাকে ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা বলে। ⬛️ মৃত্তিকা দূষণ কাকে বলে  👉 মৃত্তিকা দূষণ : মৃত্তিকার উপরই আমরা বসবাস ক...