Posts

Showing posts from October, 2022

উল্কাপাতে বেরোয় বরফ, মহাসাগরও ছিল মঙ্গল গ্রহে!

Image
উল্কাপাতে বেরোয় বরফ, মহাসাগরও ছিল মঙ্গল গ্রহে! ***************************************** মঙ্গল গ্রহে আজও উল্কাপাতের ক্ষত থেকে চুঁইয়ে পড়ে বরফখণ্ড। নীরবে শুকিয়ে যায় মহাসাগর। কল্পনা নয়, বাস্তব। দু’টো লাইনই সত্যি, বলছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। ২০১৮ সালে নাসা-র যে ‘ইনসাইট’ ল্যান্ডার মঙ্গলে গিয়েছিল, এত দিনে তার আয়ু ফুরোচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছে ইনসাইট। নাসার বিজ্ঞানী ব্রুস ব্যানার্ট বলেছেন, ‘‘আমরা এখন জানি, মঙ্গলের উপরিতল কতটা পুরু। গভীরের কাঠামোটা কেমন।’’ এ ছাড়া মঙ্গলের বুকে ১৩১৮টি কম্পনের অস্তিত্ব ধরে ফেলে ইনসাইট নিশ্চিত জানিয়েছে যে, লাল গ্রহেও ভূমিকম্প হয়! গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে মঙ্গলে দু’টি জোরালো কম্পন টের পেয়েছিল ইনসাইট। ‘সায়েন্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত দু’টি গবেষণাপত্র বলছে, ওই কম্পনের কারণ ছিল উল্কাপাত। মঙ্গলকে প্রদক্ষিণ করা মার্স রিকনিস্যান্স অরবিটারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আছড়ে পড়া উল্কাটির আঘাতে মঙ্গলের বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে বরফ। বোল্ডারের আকারের সেই বরফ পড়ে রয়েছে উল্কার তৈরি করা গহ্বরের কিনারায়। মেরু অঞ্চল নয়, প্রায় মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছে,...

হড়পা বান (Flash Flood) কেন হয়?

Image
 হড়পা বান (Flash Flood) কেন হয়? *********************************************** সম্প্রতি জলপাইগুড়ির মালবাজারে বিজয়া দশমীর রাতে মাল নদীতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় হড়পা বানের ফলে আট জনের মৃত্যু ঘটে। তবে, এর আগেও ভারতের বহু জায়গায়, এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও হড়পা বানের প্রভাবে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। সহজ কথায়, কোনো কারণে নদীতে জলপ্রবাহ আকস্মিকভাবে দ্রুত অনেকখানি বৃদ্ধি পেলে, তাকে হড়পা বান (Flash Flood) বলে। কিন্তু হঠাৎ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? স্বাভাবিক বন্যার সঙ্গে হড়পা বানের পার্থক্য কোথায়? কেনই বা আসে হড়পা বান? সাধারণত, একনাগাড়ে অনেক ক্ষণ বৃষ্টি হলে নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সেই জল উপচে পড়ে নদীর তল ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ে সমতল এলাকাতেও। কিন্তু হড়পা বান আসার সময় জলস্তর হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যায়। হড়পা বানের স্থায়িত্ব এবং সময় স্বাভাবিক বন্যার তুলনায় অনেকটাই কম। স্বাভাবিক বন্যার সময় জলপ্রবাহের গতিবেগ পরিমাপ করা গেলেও হড়পা বান কম সময়ের মধ্যে এত দ্রুত গতিতে আসে যে, তার জলপ্রবাহের গতিবেগ পরিমাপ করা বেশ কঠিন। সমতলে বয়ে যাওয়া নদীর চেয়ে পার্বত্য হিমালয়, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা-স...

কুমারী নদী নর্মদা এবং আত্রেয়ী

Image
 কুমারী নদী নর্মদা এবং আত্রেয়ী ************************************************ সূর্যের প্রখর তাপে ধরণী যখন উত্তপ্ত হয়, পৃথিবীর শস্যশ্যামলা মাঠ তখন রিক্ত। আষাঢ় মাসে সেই শুকিয়ে যাওয়া জীবনে করুণাধারায় নেমে আসে বৃষ্টি। মেঘ যেন এক কৃষ্ণবর্ণ বিশালদেহী গম্ভীর পুরুষ। তার বৃষ্টি-ঔরসে পৃথিবীর বুকে সৃষ্টির বীজ বপন হয়। নদী-নালা ভরে ওঠে। গাছপালা সজীব হয়। আমাদের পৃথিবী-মা যেন সত্যি ঋতুমতী হয়ে ওঠেন। বর্ষা ঋতুর শুরুতেই বাংলায় পালিত হয় অম্বুবাচী। তবে, শুধু বাংলা নয়, ভারতের নানা প্রান্তেও এই রীতি পালিত হয়। যেমন ওড়িশায় অম্বুবাচী ‘রজ উৎসব’ নামে পরিচিত। আসামে এসময় ‘তুলি বিবাহ’ নামে একটি লোকানুষ্ঠান হয়। পৃথিবী থেকে সূর্য তার তাপ দিয়ে জল চুরি করে বাষ্পের আকারে। রাজস্থানের মানুষেরা তাই সূর্যকে বলে ‘অম্বুতস্কর’। অম্বুবাচী কথাটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘অম্বু’ থেকে। ‘অম্বু’ শব্দের অর্থ হল জল। আর ‘বাচী’ শব্দের অর্থ হল বৃদ্ধি। পৃথিবীর শরীরে জল বৃদ্ধি হয় অম্বুবাচীর সময়। অম্বুবাচী আসলে কৃষির উৎসব। নব ফসলের জন্ম দেওয়ার সূচনা। সূর্য আষাঢ় মাসে যে দিন মিথুন রাশিতে আর্দ্রা নক্ষত্রের প্রথম পাদে গমন করে, সেই সময় থেকে মাত...